দাজ্জাল?ইহুদী খ্রীস্টান ‘সভ্যতা’!  



Get the Flash Player to see this player.

time2online Extensions: Simple Video Flash Player Module

সালাতের আত্মিক ভাগ

সালাতের আত্মিক ভাগ

argaiv1642


প্রাসঙ্গিক কারণে সালাহর আত্মিক বিষয়টি সম্পর্কে কিছু বলা প্রয়োজন। সালাতের আত্মা হোচ্ছে যেকরাল্লা, আল্লাহর যেকর করা। যেকর মানে কি? যেকর অর্থ কোন কিছুকে স্মরণ করা, মনে করা। যেমন আপনি আপনার সন্তানের কথা মনে কোরলেন, আপনার বন্ধু বিদেশে আছে, আপনি তার কথা মনে কোরলেন, মানেই আপনি তাদের যেকর কোরলেন। এভাবে আপনি আল্লাহকে মনে কোরলেন মানেই আপনি আল্লাহর যেকর কোরলেন। অর্থাৎ সালাতের প্রথম থেকে শেষ পর্যন্ত আল্লাহকে মনে রাখা অর্থাৎ আল্লাহকে যেকর করা এটাই হোল সালাতের আত্মিক ভাগ। 

এখন প্রশ্ন হোচ্ছে--আল্লাহকে মনে কোরব কী রূপে, কী ভাবে? প্রথমে মনে কোরতে হবে যাঁর সামনে দাঁড়ানো হোয়েছে তিনি অসীম। অসীম কি? মানুষ সীমিত, ক্ষুদ্র, তার পক্ষে অসীমকে ধারণ করা অসম্ভব। তিনি যেমন অসীম তাঁর সিফতগুলিও তেমনই অসীম। তিনি অসীম রহমান, অসীম রহিম, অসীম রব, অসীম খালেক (স্রষ্টা) ইত্যাদি তাঁর যতো সিফত আছে তাঁর মতোই তাঁর প্রত্যেকটি সিফত অসীম। সালাতে তাহরীম বাঁধার পর এবং কোর’আনের সূরা আবৃত্তি করার পর রুকুতে যেয়ে অর্থাৎ তাঁর কাছে মাথা নত কোরে মনে কোরতে হবে তিনি আযম; অর্থাৎ বিশাল বিরাট, যে বিরাটত্বের, বিশালতার কোন সীমা নেই। এবং এই বিরাট এবং বিশালতা সোবহান অর্থাৎ চুড়ান্ত ত্রুটিহীন, দোষহীন এবং নিখুঁত, যাঁর চেয়ে ত্রুটিহীন এবং নিখুঁত কোন কিছু হয় না। আর মুসল্লী সেই বিশালতার সামনে অতি-অতি ক্ষুদ্র এবং তাঁর সামনে অবনত। তারপর সামি আল্লাহু লেমান হামীদা বোলে দাঁড়াতে হয়, অর্থাৎ মুসল্লী যে তাঁর হামদ ঘোষণা কোরল আল্লাহ তা শুনলেন। অতঃপর সেজদাহ। সেজদায় গিয়ে বোলবে সোবহানা রাব্বি আল আ’লা। আ’লা অর্থ উচ্চতম, অসীম উচ্চ, যে উচ্চতার সীমা নেই এবং এই অসীম উচ্চতা সোবহান অর্থাৎ চুড়ান্ত ত্রুটিহীন, দোষহীন এবং নিখুঁত। মুসল্লী তাঁর সামনে অতি অতি নিচু এবং তাঁর পায়ে সেজদাহ-অবনত। এই অসীম বিশালতা এবং এই অসীম উচ্চতার একত্রিত রূপ আল্লাহু আকবার অর্থাৎ আল্লাহ অতি বড়। এই বড়ত্ব উচ্চতা ও বিশালতা উভয় দিক থেকে। এই বড়ত্বেরও কোন সীমা নেই। আল্লাহর এই রূপকে সর্বক্ষণ মনে রেখে সালাহ শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত কায়েম করাই হোল সালাতে আল্লাহর যেকর, যেকরাল্লাহ। 

মুসল্লী যখন রুকুতে গেল তখন তার অবস্থা মোসলেম। এবং যখন সেজদায় গেল তখন সে মো’মেন। মোসলেম হোল যে আল্লাহর সকল হুকুম, বিধানকে সসম্মানে তাসলিম কোরে নেয়। যখন মুসল্লী রুকুতে গেল সে আল্লাহর বিরাটত্বের কাছে নিজের ক্ষুদ্রতাকে সমর্পণ কোরল, তাই তখন সে মোসলেম। আর যখন সে সেজদায় গেল, তখন সে তার সমস্ত সত্ত্বাকে আল্লাহর কাছে সমর্পণ কোরল। এটা মো’মেনের অবস্থা। এ বিষয়টি ভালোভাবে বোঝার জন্য এখানে একটি নকশা দেওয়া হোল।

 

সালাতের রুকুতে, সেজদায় যাওয়ার সময় এবং অন্য সকল চলন (Movement) এ যখন আল্লাহু আকবর বলা হয় তখন আল্লারর এই বিরাটত্ব, আযমত ও উচ্চতা সবকিছুই এর মধ্যে চোলে আসে। এই সম্পূর্ণটা মিলিয়েই আল্লাহু আকবার। আল্লাহর এই রূপকে মনে রাখাই হোল সালাতে আল্লাহর যেকর অর্থাৎ যেকরাল্লাহ। 

□□□

যারা আল্লাহর রসুলের পদতলে বোসে এসলাম শিখেছিলেন এবং তাঁর হাতে বায়াত নেবার পর বহু বছর তাঁর সঙ্গে দিনে পাঁচবার সালাহ্ কায়েম কোরেছেন তাদের অন্যতম এবং দ্বিতীয় খলীফা ওমর (রা:) বিন খাত্তাবের আকীদায় সালাহ্ কী ছিলো? একদিন মো'মেন মোজাহেদদের সালাহ্ পর্যবেক্ষণ করার সময় তিনি দেখলেন একজন ঠিকই দৃঢ় এবং সোজাভাবে দাঁড়িয়েছেন, কিন্তু তার মাথাটা খানিকটা সামনের দিকে ঝোঁকানো। ওমর (রা:) ঐ মোজাহিদের মাথা ধোরে উঁচু, সোজা কোরে দিলেন এবং তারপর তার মাথায় মৃদু আঘাত কোরে বোললেন খুশু এখানে নয়, বোলে তার বুকে আংগুল রেখে বোললেন- খুশু এখানে  

সামরিক বাহিনীর প্যারেডের সঙ্গে সালাতের মিল শুধু এটুকুই নয়- আরও আছে। আল্লাহ কোর’আনে আদেশ কোরেছেন যে তোমরা সর্বদা মসজিদে যেতে উত্তম পোশাক-পরিচ্ছদ পরে যাবে (কোর’আন সুরা আরাফ আয়াত ৩১)। শব্দ ব্যবহার কোরেছেন ‘যিনত’, যার অর্থ জাক-জমকপূর্ণ, চাকচিক্যময়। যিনত অর্থ অলংকারও (কোর’আন সুরা নুর আয়াত ৩১)। মস্জীদে যে সব কারণে যেতে হয় তার মধ্যে মুখ্য কারণ সালাহ্ কায়েম করা। অর্থাৎ আল্লাহ আদেশ কোরেছেন সালাতে দাঁড়াতে তোমরা জাক-জমকপূর্ণ কাপড়-চোপড়, পরিচ্ছদ পোরে নেবে। প্রশ্ন হোচ্ছে এবাদত করার জন্য, আল্লাহর সামনে বিনীত, বিনয়-নম্র হোয়ে দাঁড়াবার জন্য অমন সাজ-সজ্জা করার আদেশ কেন? 

যে কারণে একটি সামরিক বাহিনীর প্যারেড, কুচকাওয়াজ করার সময় তাদের পোশাক পরিচ্ছদ অর্থাৎ ইউনিফর্ম একই রকম, ইস্ত্রি করা পরিষ্কার হওয়া বাধ্যতামূলক, ঠিক সেই কারণেই মস্জীদে সালাতের সময় জাক-জমকপূর্ণ পোশাক পরার জন্য আল্লাহর এই হুকুম। বর্ত্তমানে সামরিক বাহিনীগুলি জাতির মধ্যে থেকে বেছে বেছে লোক নিয়ে গঠন করা হয়, কাজেই তাদের জন্য একই রকম পোশাক অর্থাৎ ইউনিফর্ম বাধ্যতামূলক করা সম্ভব হয়। কিন্তু উম্মতে মোহাম্মদী সম্পূর্ণ জাতিটাই একটা সামরিক বাহিনী; যে কথা পেছনে বোলে এসেছি। এর পুরুষ-নারী, যুবক-যুবতী, বৃদ্ধ-বৃদ্ধা, ধনী-গরীব, শিক্ষিত-অশিক্ষিত সব সৈনিক, প্রত্যেকে মোজাহেদ। এদের সবাইকে একই পোশাক পরার আদেশ দেওয়া বাস্তব সম্মত নয়। তাই আল্লাহ তা না দিয়ে যার পক্ষে যতটুকু সম্ভব উত্তম, জাক-জমকপূর্ণ পোশাক পরে সালাতের, মো’মেনদের কুচকাওয়াজ করার আদেশ দিয়েছেন।

সালাতের উদ্দেশ্য সম্বন্ধে আকীদা আজ বিকৃত হোয়ে যাওয়ার ফলে এ জাতির লোকেরা যেমন আঁকাবাঁকা লাইনে মাথা নিচু কোরে; নুব্জ হোয়ে দাঁড়িয়ে যেন-তেন ভাবে সালাতের অনুষ্ঠান করে, তেমনি একই কারণে সাধারণ বাজে কাপড় পরে সালাতে দাঁড়িয়ে আল্লাহর আদেশ অমান্য করে। এরাই আবার বিয়ে-সাদী এবং অন্যান্য অনুষ্ঠানে তাদের সবচেয়ে ভালো পোশাক পরিচ্ছদ পরে। আল্লাহর রসুলের সময় উম্মতে মোহাম্মদী যে সালাতের পোশাক সম্বন্ধে সচেতন ছিলেন তার প্রমাণ আমরা পাই হাদীসে রাসুলে। আল্লাহর রসুল বোলেছেন- সামর্থ্য থাকলে তোমরা জুমার সালাতের জন্য একজোড়া আলাদা কাপড় রাখবে, কাজের কাপড় ব্যতিত [আবদুল্লাহ বিন সালিম (রা:) থেকে ইবনে মাজাহ, মেশকাত]। তিনি আরও হুকুম কোরেছেন- তোমরা সালাহ্ কায়েম করতে অবশ্যই দু’টো কাপড় পরিধান কোরবে (ইবনে ওমর (রা:) থেকে- এমাম তাহাভী, মেশকাত)। এক ব্যক্তি আল্লাহর রসুলের কাছে এসে একটি কাপড় পরে সালাহ্ কায়েম করা বিষয়ে জিজ্ঞাসা কোরলে তিনি বোললেন- তোমাদের প্রত্যেকের কি দু’টো কোরে কাপড় রাখার সামর্থ্য আছে? [আবু হোরায়রা (রা:) থেকে- বোখারী]। অর্থাৎ যাদের দু’টো কাপড় রাখার সামর্থ্য আছে তারা যেন দু’টো কাপড় রাখে এবং ঐ বিশেষ কাপড় পোরে সালাহ্ কায়েম করে। 

১. একদা হযরত আবু যর গেফারী (রা:) পুরাতন কম্বলে শরীর আবৃত কোরে পথে বের হোলে এক ব্যক্তি জিজ্ঞাসা কোরলো, এই ছেড়া কম্বলটি ছাড়া আপনার কি আর কোন পোশাক ছিল না? তিনি জবাব দিলেন, থাকলে অবশ্যই তুমি তা আমার পরিধানে দেখতে পেতে। লোকটি বললো- তা কি কোরে হয়, মাত্র দুই/তিন দিন আগেই আমি আপনার পরনে অতি উত্তম এক জোড়া পোশাক দেখেছি। আবু যর (রা:) বোললেন, সেটা আমি একজন অভাবী লোককে দিয়ে দিয়েছি। লোকটি মন্তব্য কোরলো, আল্লাহর শপথ! এই দুনিয়ার বুকে আপনার চাইতে অভাবী কোন লোক থাকতে পারে বোলে আমার ধারণা ছিল না। হযরত আবু যর (রা:) জবাব দিলেন, হতভাগা! আমার শরীরেতো একটি কম্বল আছে, সেই লোকটির হয়তো তাও ছিল না। শুন, এই পোশাকটির অতিরিক্ত সালাহ্ কায়েম করার মত একটি ‘আবা’ও আমার ঘরে রক্ষিত আছে। আমার কয়েকটি ছাগী আছে, যেগুলি দুধ দেয়। বাহনের জন্য একটি গাধা আছে। কাজকর্ম কোরবার মত একটি বাঁদী আছে। এরপরেও কি আমি অভাবী? আমার তো ভয় হয়, কেয়ামতের দিন এই সম্পদরাশির হিসাব দিতে গিয়েই আমি না অপারগ হয়ে পড়ি। [বিপ্লবী সাহাবী হযরত আবু যর গিফারী (রা:)- মুহিউদ্দিন খান, ইসলামিক ফাউন্ডেশন, বাংলাদেশ]।

২. মহানবী (সাঃ) বোলেছেন- তোমাদের কাহারও পক্ষে ইহা আপত্তির বিষয় নয় যে, যদি তাহার সামর্থ্য থাকে জুমার দিনের জন্য একজোড়া পৃথক কাপড় রাখবে কাজের কাপড় ব্যতিত [আব্দুল্লাহ বিন সালাম (রা:) থেকে ইবনে মাজাহ, মেশকাত]।

৩. এক ব্যক্তি রাসুল (রা:) এর কাছে এসে একটি কাপড় পরে সালাহ্ কায়েম সম্পর্কে জিজ্ঞাসা কোরলো। রাসুলুল্লাহ বোললেন, তোমাদের প্রত্যেকের কি দু’টো কোরে কাপড় রাখার সামর্থ্য আছে? [আবু হোরায়রা (রা:) থেকে- বোখারী] 

হাদীস গুলোতে দু’টো কাপড় রাখার অর্থ হোচ্ছে- নবী করিমের সময় আরবদের আর্থিক অবস্থা ছিলো অতি করুণ। সমস্ত পৃথিবীতে এত দরিদ্র আর কোন জনসমষ্টি ছিলো কিনা সন্দেহ। অধিকাংশ লোকেরই পরিধানে থাকতো একটি কাপড় কম্বল বা চাদর মাত্র যা দিয়ে তারা শরীরের ঊর্দ্ধাংশ ও নিম্নাংশ আংশিক ভাবে ঢেকে রাখতেন। শরীরের উর্দ্ধাংশ ও নিম্নাংশের জন্য আলাদা আলাদা কাপড় পরা সম্ভব ছিলো শুধু আর্থিক দিক দিয়ে স্বচ্ছলদের পক্ষে। এজন্যই রসুলাল্লাহ আদেশ কোরেছেন- যাদের জন্য সম্ভব তারা যেন দু’টো কাপড়, অর্থাৎ উর্দ্ধাঙ্গের জন্য একটি ও নিম্নাঙ্গের জন্য আরেকটি কাপড় সালাতের সময় পরে নেয়, অর্থাৎ যে যতখানি পারে ‘যিনত’ সাজ-সজ্জা, জাক-জমক প্রকাশ করে। পরে যখন উম্মতে মোহাম্মদী জেহাদ ও কেতালের (সংগ্রাম ও সশস্ত্র যুদ্ধের) মাধ্যমে অর্দ্ধেক পৃথিবীর বুকে আল্লাহর দীন প্রতিষ্ঠা করে তখন আরবের ঐ চরম দারিদ্র্য শেষ হোয়ে প্রাচুর্যে ভরে যায় এবং তখন আল্লাহর আদেশ- সালাতে ‘যিনত’ প্রদর্শন পুরোপুরি অর্থবহ হয়।

প্রকৃত তওহীদ ও জেহাদ অর্থাৎ মো’মেন হবার আল্লাহর দেয়া সংজ্ঞা (সুরা হুজরাত- ১৫) থেকে বিচ্যুত, আল্লাহর অভিশপ্ত (লা’নত প্রাপ্ত) এই জাতিকে সালাতের উদ্দেশ্য বোঝাবার চেষ্টায় ইতিহাস (তা’রিখ) ও হাদীস থেকে দ্বিতীয় খলিফা ওমর (রা:) বিন খাত্তাবের উল্লেখ করা প্রয়োজন। তিনি চাবুক হাতে মুসুল্লীদের লাইনের মধ্য দিয়ে হাটতেন এবং কাউকে ধনুকের ছিলার মত সোজা লাইন থেকে বা অন্য কোন বিচ্যুতি দেখলে এবং চাবুক দিয়ে আঘাত করতেন। যারা সালাহ্, তাদের ভাষায় নামাযের উদ্দেশ্য ধ্যান করা মনে করেন (এবং এই আকীদাই মোসলেম দুনিয়ায় আজ সর্বব্যাপী), তাদের কাছে আমার প্রশ্ন- চাবুক মেরে কি মানুষকে ধ্যান করানো যায়? ওমরের (রা:) কাজ কি সৈন্য বাহিনীর প্যারেডের সার্জেন্ট মেজরের (Serjeant Major) কাজের সাথে মিলে না, যে প্যারেডের প্রশিক্ষণে ভুল ত্রুটি হোলে গালি দেয়, পিটায়? আর প্রথম সারির আসহাব, এসলামের দ্বিতীয় খলিফা জানতেন না সালাহ্ ধ্যান করার জন্য নাকি সামরিক প্রশিক্ষণ? আল্লাহর লা’নতের ফলে এ জাতির সাধারণ জ্ঞান (Common sense) পর্যন্ত লোপ পেয়েছে।

আল্লাহ কোর’আনের সর্বত্র আদেশ কোরেছেন, মো’মেনদের আদেশ কোরেছেন, সালাহ্ কায়েম কর, কোথাও বলেননি সালাহ্ পড় বা সালাহ্ আদায় কর। আল্লাহ সালাহ্ কায়েম করতে কেন বোলেছেন এ নিয়ে আলেম, মুফাস্সিরদের মধ্যে বহু আলোচনা, ব্যাখ্যা হোয়েছে। বেশীর ভাগের ব্যাখ্যা হোচ্ছে- খুব নিয়মিত এবং সময় মত, সালাহ্ পড়া, কোন কাযা না করা। এ ব্যাখ্যা ভুল, কারণ কোন কাযা না কোরে নিয়মিত, এবং সময়মত সালাহ্ পড়েও সালাহ্ কায়েম নাও হোতে পারে। কায়েম শব্দের অর্থ প্রতিষ্ঠা; চিরদিনের জন্য, স্থায়ীভাবে প্রতিষ্ঠা। সালাহ্ কায়েম করার অর্থ সালাহ্ যা শেখায় যে গুণগুলি তৈরী করে তা মুসুল্লীর চরিত্রের মধ্যে প্রতিষ্ঠা করা; স্থায়ীভাবে গেঁড়ে দেয়া। সালাহ্ যদি মুসুল্লীর চরিত্রে ঐ গুণগুলি তৈরী না করে তবে সারা জীবনে এক ওয়াক্ত সালাহ্ কাযা না কোরলেও সে মুসুল্লীর সালাহ্ কায়েম করা হবে না। প্রশ্ন হোচ্ছে, সালাহ্ কি কি রকম গুণ (Attributes, Quality) তৈরী করে? এর সম্পূর্ণ তালিকা, আমার পক্ষে দেয়া সম্ভব নয়; কোন মানুষের পক্ষেও সম্ভব নয়, এ সম্ভব শুধু আল্লাহর পক্ষে এবং সম্ভবত আল্লাহর রসুলের পক্ষে। তবে আমি শুধু এইটুকু বোলতে পারি যে দৈহিক, মানসিক, আত্মিক, আধ্যাত্মিক, সমস্ত রকমের গুণের অর্জন ও উন্নতির প্রক্রিয়া এই সালাহ্ যদি তা সঠিক আকীদার সঙ্গে এবং সঠিক ভাবে কায়েম করা হয়। তবে এর প্রথম ও সর্বোচ্চ উদ্দেশ্য হোল সেই সব গুণ অর্জন করা যে সব গুণ চরিত্রে দৃঢ়ভাবে প্রতিষ্ঠিত না হোলে মো’মেনের ওপর ঈমানের পরই দ্বিতীয় যে দায়িত্ব, যে দায়িত্ব মো’মেন হবার সংজ্ঞার মধ্যেই আল্লাহ দিয়ে দিয়েছেন, [মো’মেন শুধু তারা যারা আল্লাহ ও রসুলের ওপর ঈমান এনেছে তারপর আর কোন সন্দেহ করে না এবং তাদের প্রাণ ও সম্পদ দিয়ে জেহাদ করে (ঐ তওহীদ প্রতিষ্ঠার জন্য) (কোর’আন- সুরা হুজরাত ১৫)] অর্থাৎ জেহাদ করা সম্ভব নয়। সে গুণগুলি হোল- ঐক্য, শৃংখলা, এতায়াত (আদেশ পালন) ও হেজরত। এই সামরিক গুণগুলি অর্জনই সালাতের প্রাথমিক উদ্দেশ্য, তার কারণ পৃথিবীতে আল্লাহর সত্যদীন প্রতিষ্ঠার প্রক্রিয়া হিসাবে আল্লাহ জেহাদ ও কেতালকে (সশস্ত্র যুদ্ধ) নীতি হিসাবে নির্দ্ধারণ কোরেছেন। ঐ প্রাথমিক গুণগুলি অর্জন ও মুসুল্লীর চরিত্রের মধ্যে তা প্রতিষ্ঠার পর অন্যান্য গুণাবলিও ক্রমে ক্রমে প্রতিষ্ঠিত হবে। এই আকীদার সঙ্গে এবং আল্লাহ-রসুল যে ভাবে যে নিয়ম নির্দ্ধারিত কোরে দিয়েছেন ঠিক সেইভাবে আজ পৃথিবীতে সালাহ্ সম্পাদন হয় না বোলেই সালাতের কোন ফল নেই। যে সালাহ্ মুসুল্লীদের চরিত্রে ইস্পাতের মত কঠিন ঐক্য সৃষ্টি করে না, পিঁপড়ার মত শৃংখলা, মালায়েকদের মত আদেশ পালন, আনুগত্য সৃষ্টি করে না, আল্লাহর বিরুদ্ধে যা কিছু আছে সে সব কিছু থেকে বিচ্ছিন্ন, হেজরত করায় না, শাহাদাতের জন্য আকুল আকাঙ্খা জন্মায় না, শত্রুর প্রাণে ত্রাস সৃষ্টিকারী দুর্ধর্ষ মোজাহেদ, যোদ্ধার চরিত্র সৃষ্টি করে না, সে সালাহ্ অর্থহীন, সে সালাতের আনুষ্ঠানিকতা করা- না করা সমান।

আল্লাহ মো’মেনদের আদেশ কোরছেন- তোমরা সালাহ্ ও সবরের সাথে আমার কাছে সাহায্য প্রার্থনা করো (বাকারা ১৫৩)। আদেশটি গুরুত্বপূর্ণ ও অর্থবহ। এ আদেশের অর্থ বুঝতে গেলে সালাতের সঙ্গে সবরের অর্থও বুঝতে হবে। বর্ত্তমানের বিকৃত এসলামের ভুল আকীদায় সবরের অর্থ ধৈর্য, সহ্য করা ইত্যাদি। সবর শব্দটি শুনলেই মনে যে আকীদাটা উদয় হয় তা জড়, অসাড়, নিষ্ক্রিয় (Passive)। অর্থাৎ সবর করা মানে নিষ্ক্রিয়, জড় হোয়ে সব অন্যায়, অত্যাচার-অবিচার সহ্য করা, কিছু না করা, এমনকি অনেকের কাছে প্রতিবাদ পর্যন্ত না করা। সবর শব্দের প্রকৃত অর্থ, যে অর্থে আল্লাহ তাঁর কোর’আনে এবং রসুল তাঁর হাদীস ব্যবহার কোরেছেন তা বর্ত্তমানের এই অর্থের ঠিক বিপরীত। প্রচণ্ড গতিশীল (Dynamic) এসলামকেই যেমন আকীদার বিকৃতিতে স্থবির (Static) কোরে ফেলা হোয়েছে তেমনি সবর শব্দের অর্থকেও নিষ্ক্রিয় অর্থে নেয়া হোচ্ছে। সবর শব্দের অর্থ বাংলায় বোঝাতে গেলে বোলতে হয় ‘সংকল্পের দৃঢ়তা’ ইংরাজীতে Determined Perseverance; কোন উদ্দেশ্য অর্জন কোরতে দৃঢ়ভাবে সমস্ত কিছু সহ্য করা। যত বাধা আসুক, যত বিপদ-আপদ আসুক, যত কষ্ট হোক, বিন্দুমাত্র নিরাশ বা হতাশ না হোয়ে পর্বতের মত অটল থেকে প্রাণান্ত প্রচেষ্টা, সংগ্রাম চালিয়ে যাওয়া। জেহাদে, যুদ্ধে এই সবর অবলম্বনেরই আদেশ দিয়েছেন আল্লাহ তাঁর কোর’আনে এবং বোলেছেন আমি স্বয়ং সাবেরদের (সবর অবলম্বনকারীদের) সাথে আছি (কোরান- সুরা বাকারা ১৫৩)।

এখন একটু চিন্তা কোরলেই বোঝা যাবে আল্লাহ সালাতের এবং সবরের সঙ্গে তাঁর কাছে দোয়া কোরতে বোলছেন কেন? তিনি সালাহ্ ও যাকাতের সঙ্গে, সালাহ্ ও হজের সঙ্গে, সালাহ্ ও সওমের (রোযা) সঙ্গে, কোন কিছুর সাথেই না বোলে সালাহ্ ও সবরের সাথে বোলেছেন কেন? সালাহ্ মো’মেনের চরিত্রের মধ্যে যে অসংখ্য গুণ সৃষ্টি করে তার মধ্যে শুধু প্রাথমিক যে কয়টি, অর্থাৎ ঐক্য, শৃংখলা, আনুগত্য ও হেজরত এই কয়টির সঙ্গে যদি সবরের গুণগুলি অর্থাৎ সংকল্পের দৃঢ়তা, প্রাণ থাকতে নিরাশ, হতাশ, নিরুদ্যম না হোয়ে অটল থেকে পূর্ণ প্রচেষ্টা চালিয়ে যাওয়া ইত্যাদি যোগ করা হয় তবে কি দাঁড়ায়? দাঁড়ায় এই যে ব্যক্তি হোক, পরিবার হোক, গোত্র হোক, জাতি হোক যাই হোক, সালাতের সৃষ্ট চরিত্রের অধিকারী হোয়ে সবরের সঙ্গে সংগ্রাম প্রচেষ্টা কোরলে সে বা তারা অজেয়, অপরাজিত হোয়ে যায়, সফলতা বিজয় তাদের জন্য অবধারিত হোয়ে যায়। তাই আল্লাহ আদেশ কোরেছেন শুধু সালাতের সঙ্গে নয় সালাতের সঙ্গে সবরেরও। আরও বোলেছেন- নিরাশ হোয়ো না, নিরুদ্যম হয়োনা বিজয়ী তোমরা হবেই, যদি তোমরা মো’মেন হও (সুরা আল এমরান- ১৩৯)। অর্থাৎ আমরা যদি সত্যই মো’মেন হই তবে বিজয়ী আমরা হবোই এটা আল্লাহর দেয়া প্রতিশ্রুতি।

বর্ত্তমানে মো’মেন বোলে পরিচিত ১৫০ কোটির এই জাতিটি পৃথিবীর অন্যান্য সমস্ত জাতির কাছে প্রত্যেক ব্যাপারে পরাজিত, তাদের দ্বারা লান্ছিত, অপমানিত, তাদের দ্বারা নিহত, এদের মেয়েরা তাদের দ্বারা গণধর্ষিতা। সুতরাং এ সিদ্ধান্ত অস্বীকার করার কোনও উপায় নেই যে আল্লাহর কথা যদি সত্য হোয়ে থাকে তবে এই জাতি মো’মেন নয় এবং মো’মেন না হওয়ার অর্থ অবশ্যম্ভাবী মোশরেক, কাফের হওয়া; এবং আল্লাহ অঙ্গীকার কোরেছেন যে তিনি মোশরেক ও কাফেরদের মাফ কোরবেন না (সুরা নেসা- ৪৮, ১১৬, সুরা কাহফ- ১০২, ১০৫, ১০৬)। এই দুনিয়াতে তিনি যেমন মাফ কোরছেন না, অন্যান্য জাতিগুলি দিয়ে নিষ্পেষিত কোরে কঠিন শাস্তি দিচ্ছেন, ঐ দুনিয়াতে এই জাতিকে এর চেয়ে কঠিন শাস্তি দেবেন। আর যদি বর্ত্তমানের মোসলেম বোলে পরিচিত জনসংখ্যাটি তাদের দাবী মোতাবেক মো’মেন হোয়ে থাকে তবে আল্লাহ মিথ্যা আশ্বাস দিয়েছেন (নাউজুবেল্লাহ)।

বিকৃত আকীদায় বর্ত্তমানের বিপরীতমুখী এসলামে সালাহ্কে অন্যান্য ধর্মের উপাসনা, পূজা হিসাবে নেয়ার ফলে আজ এটা আল্লাহর-রসুলের শেখানো সালাহ্ থেকে বিচ্যুত, সুতরাং সালাতের উপকার থেকে বঞ্চিত। সালাহ্ যে ধ্যান, আল্লাহর প্রতি নিবিষ্টতা তা প্রমাণ কোরতে একটা হাদীস উপস্থাপন করা হয়। সেটা হোল- একবার এক যুদ্ধে আলীর (রা:) পায়ে একটি তীর বিঁধে যায়। লোকেরা যখন তীরটি টেনে বের করার চেষ্টা করলো তখন তিনি তীব্র ব্যাথায় তাদের তীরটি খুলতে দিলেন না। অথচ তীরটি তাঁর পা থেকে না খুললেই নয়, তাই তারা বিশ্বনবীর কাছে যেয়ে ব্যাপারটা বোললেন। আল্লাহর রসুল শুনে বোললেন- আলী যখন সালাতে দাঁড়ায় তখন তোমরা তীরটি বের কোরে নিও। এরপর আলী (রা:) যখন সালাতে দাঁড়ালেন তখন তাঁর পা থেকে তীরটি টেনে বের কোরে নেয়া হোল, তিনি নড়লেন না, টু শব্দটিও কোরলেন না। 

এই ঘটনাকে বর্ত্তমানের বিকৃত আকীদায় নেয়া হয় এইভাবে যে, সালাতে দাঁড়ানো অবস্থায় আলী (রা:) আল্লাহর চিন্তায় এমন বিভোর হোয়ে যেতেন যে তার বাহ্যজ্ঞান থাকতো না, দুনিয়ায়, চারপাশে কি হোচ্ছে না হোচ্ছে তার তিনি কিছুই জানতেন না, এমন কি যে তীর টেনে বের করার চেষ্টায় তাঁর অসহ্য ব্যাথা লাগতো সে তীর টেনে বের করার ব্যাথাও তিনি অনুভব কোরলেন না। প্রশ্ন হোচ্ছে- সালাতে যদি আলীর (রা:) ঐ অবস্থা হয় তাহোলে তিনি এমামের তকবীর শুনতেন কেমন কোরে, সেই তকবীর শুনে রুকু-সাজদায় যেতেন কেমন কোরে, সালাতের একশ’র বেশী নিয়ম-কানুন মোতাবেক সালাহ্ কায়েম কোরতেন কি ভাবে, কয় রাকাত পড়লেন তা মনে রাখতেন কি ভাবে? ধ্যান-মগ্ন হোয়ে বাহ্যজ্ঞানহীন হোয়ে এমন কি শারীরিক ব্যাথা-যন্ত্রণা পর্যন্ত লোপ পেয়ে সালাহ্ কায়েম কি সম্ভব? সামান্য সাধারণ জ্ঞান যার আছে তিনিই বুঝবেন- অসম্ভব। অথচ ঘটনা সম্পূর্ণ সত্য [হযরত আলী- আবুল ফজল, পৃষ্ঠা- ১৩২, চার খলিফার জীবন কথা- আব্দুল আজীজ আল নোমান, পৃষ্ঠা- ১০৫, হযরত আলী (রা:)- মাওলানা মুজিবুর রহমান মমতাজুল মোহাদ্দেসীন, পৃষ্ঠা- ৪০৩, আমীরুল মো’মেনিন হযরত আলী (রা:)- সাদেক শিবলী জামান, পৃষ্ঠা- ৪৩৮]।

তাহোলে আসল ব্যাপার কি? আসল ব্যাপার হোচ্ছে এই- আলী (রা:) এসলাম কি, এসলামের সঠিক আকীদা অর্থাৎ এর উদ্দেশ্য কি, উদ্দেশ্য অর্জনের প্রক্রিয়া কি, সালাতের উদ্দেশ্য কি এসবই শিখেছিলেন আর কেউ নয় স্বয়ং আল্লাহর রসুলের কাছ থেকে; কাজেই তাঁর আকীদা অবশ্যই সঠিক ছিলো। সেই সঠিক আকীদা মোতাবেক তিনি জানতেন যে সালাহ্ চরিত্র গঠনের প্রশিক্ষণ এবং সামরিক প্রশিক্ষণ; এই প্রশিক্ষনের জন্য দাঁড়ালে, দাঁড়াতে হবে শরীর, মেরুদণ্ড, ঘাড় সোজা কোরে দৃষ্টি নিবদ্ধ রাখতে হবে নির্দিষ্ট স্থানে, এমামের তকবিরের সঙ্গে সকলে একত্রে দ্রুত রুকু, এতে’দাল, সাজদা ও সালাম কোরতে হবে। তিনি এও জানতেন যে সালাতে দাঁড়ালে নিজেকে এমনভাবে শৃংখলাবদ্ধভাবে রাখতে হবে যে এদিক ওদিক তাকানো যাবে না, চোখ বন্ধ কোরে রাখা যাবে না, কাপড় বা মাথার চুল সোরে গেলে তা হাত দিয়ে ঠিক করা যাবে না, কাশি বা হাইতোলা যথাসম্ভব রোধ কোরতে হবে, এমন কি সাজদার স্থানে ধূলাবালি বা কপালে ব্যাথা লাগতে পারে এমন পাথর-কুচি বা কাঁকর থাকলেও ফু দিয়ে বা হাত দিয়ে সরানো যাবে না, এক পায়ে একটু বেশী ভর দেওয়া চোলবে না। এর যে কোন একটি কোরলেই সালাহ্ ক্ষতিগ্রস্ত বা নষ্ট হবে; অর্থাৎ এক কথায় সামরিক শৃংখলা। পা থেকে তীর টেনে বের করার সময় আলীর (রা:) নিশ্চয়ই তীব্র ব্যাথা লেগেছিল, কিন্তু তিনি দাঁতে দাঁত চেপে সোজা হোয়ে দাঁড়িয়ে ছিলেন সালাহ্ নষ্ট বা ক্ষতিগ্রস্ত হবার ভয়ে। এই ঘটনাকে আলীর (রা:) ধ্যান-মগ্ন হোয়ে সালাহ্ কায়েমের প্রমাণ হিসাবে উপস্থাপিত করা যায় শুধু সাধারণ জ্ঞান সম্পূর্ণভাবে লোপ পেলে এবং আল্লাহর লা’নত যাদের ওপর পড়ে তাদের যে সব শাস্তি হয় তার মধ্যে অন্যতম হোল আকল (আক্কেল) অর্থাৎ সাধারণ জ্ঞান (Common sense) লোপ পাওয়া, তাই হোলে।

আলীর (রা:) এই ঘটনার সঙ্গে আরও একটি ঘটনার কথা উল্লেখ না কোরে পারছি না। এসলামের প্রকৃত সালাহ্ যে কি রকমের চরিত্র সৃষ্টি কোরতো, মো’মেনের চরিত্রের মধ্যে ঐক্য, শৃংখলা, আনুগত্য ও হেজরতের গুণের সঙ্গে সঙ্গে যে কি কঠিন সবরও সৃষ্টি কোরত তার একটা উদাহরণ এই ঘটনাটি।
বনি আউস বিন লাইস গোত্রের গালীব বিন আবদুল্লাহ আল কালবিকে (রা:) আল্লাহর রসুল একদল অশ্বারোহী দিয়ে প্রেরণ কোরলেন বনি আল-মুলাওয়াহ গোত্রকে আক্রমণ করার জন্য। ঐ গোত্র তখন আল কাদীদ নামক স্থানে অবস্থান কোরছিলো। এই দলে ইয়াকুব বিন ওতবা আল মুগীরা সানিল (রা:) নামে এক সাহাবা অন্তর্ভুক্ত ছিলেন। বিশ্বনবীর আদেশ ছিলো ঐ গোত্রকে রাত্রে আক্রমণ করার। অশ্বারোহী মোজাহেদ দল সূর্যাস্তের সময় আল কাদীদ উপত্যকায় এসে পৌঁছলো। বনি মুলাওয়াহর অবস্থান ও অন্যান্য খবরাখবরের জন্য ইয়াকুব বিন ওতবাকে (রা:) পাঠানো হোল। ঐ গোত্র যে উপত্যকায় অবস্থান কোরছিলো তার পাশেই একটা পাহাড়ের গা বেয়ে উঠে ইয়াকুব (রা:) সাবধানে ওদের পর্যবেক্ষণ কোরতে লাগলেন।

এরই মধ্যে ঐ পাহাড়ের কাছেই একটি তাবু থেকে একজন লোক বেরিয়ে এসে চারদিক দেখতে লাগলো এবং হঠাৎ সে ইয়াকুবকে (রা:) দেখে ফেললো। কিন্তু সন্ধ্যা এত গাঢ় হোয়ে গিয়েছিলো যে সে বুঝলোনা যে ওটা মানুষ না অন্য কিছু। সে তাবুর ভেতরে তার স্ত্রীকে ডেকে বললো- আমি একটা কিছু দেখতে পাচ্ছি যা দিনে ওখানে দেখি নি। দেখতো কুকুর আমাদের কোন জিনিস ওখানে নিয়ে ফেলেছে কিনা। স্ত্রী তাবুর ভেতরের সব জিনিস খোঁজ কোরে বোললো- না এখানে সব ঠিক আছে। তখন লোকটি তার স্ত্রীকে বোললো- তাহোলে আমার ধনুকটা আর দু’টো তীর নিয়ে এসো। স্ত্রী তীর-ধনুক নিয়ে এলে লোকটি ইয়াকুবকে (রা:) লক্ষ্য কোরে একটি তীর ছুড়লো। তীর এসে ইয়াকুবের (রা:) পাঁজড়ে লাগলো। ইয়াকুব (রা:) জানেন যে তিনি বিন্দুমাত্র নড়লেই লোকটি বুঝবে যে ওটা কোন মানুষ এবং সঙ্গে সঙ্গে হৈ চৈ কোরে তার গোত্রকে সতর্ক কোরে দেবে যে শত্রুপক্ষের কোন লোক গোয়েন্দাগিরি কোরতে এসেছে। ইয়াকুব (রা:) অতি সাবধানে না নড়ে একহাত দিয়ে তীরটি পাঁজড় থেকে টেনে বের কোরে রেখে দিলেন। বনি মুলাওয়াহর লোকটি তবুও নিঃসন্দেহ না হোয়ে তার দ্বিতীয় তীরটি ছুড়লো। এবারের তীর ইয়াকুবের (রা:) কাঁধে এসে ঢুকলো। এবারও তিনি না নড়ে আস্তে সাবধানে তীরটি টেনে খুলে রাখলেন। এবার ঐ লোকটি তার স্ত্রীকে বোললো আমার দু’টো তীরই ঠিক লেগেছে। ওটা যদি কোন দলের গুপ্তচর বা জীবন্ত কিছু হোত তবে নিশ্চয় নড়তো। সকালে ঐ তীর দু’টো পাহাড়ের ওপর থেকে নিয়ে এসো- নইলে আমাদের কুকুর হয়তো কামড়িয়ে নষ্ট কোরবে।

ইয়াকুবের (রা:) এই যে অবিশ্বাস্য সহ্যশক্তি, সবর, একটুও না নড়ে নিজের শরীর থেকে দু-দু’টি তীর টেনে বের করা এটা কোথা থেকে এলো? নিঃসন্দেহে এটা সালাতের শিক্ষা, সালাতের প্রশিক্ষণের ফল। ঠিক যে কারণে আল্লাহর রসুল সালাতে দাঁড়ানো অবস্থায় আলীর (রা:) পা থেকে তীর টেনে বের কোরতে বোলেছিলেন। অবশ্য আলী (রা:) ও ইয়াকুবের (রা:) ঐ সহ্যশক্তির পেছনে সালাতের শৃংখলার প্রশিক্ষণ ছাড়াও সঠিক আকীদারও তেজ ছিলো।
যে উদ্দেশ্যে আল্লাহর নবীর জীবনী থেকে এই ঘটনাটা বর্ণনা কোরলাম তা এখানেই শেষ; সালাহ্ কায়েমের ফল। কিন্তু ঘটনাটার বাকি অংশটুকুও বর্ণনা করার লোভ সংবরণ কোরতে পারছি না, যদিও তা প্রাসঙ্গিক নয়। কারণ ঘটনাটা থেকে সালাতের প্রশিক্ষণ ছাড়াও আরও দু’টি অতি প্রয়োজনীয় বিষয় জানা যায়। একটি এসলামের জেহাদ, কেতাল, যুদ্ধ যে আত্মরক্ষামূলক নয় বরং প্রচণ্ডভাবে আক্রমণাত্মক এ কথার অকাট্য প্রমাণ এবং দ্বিতীয়টি মো’মেনদের সাহায্য করা আল্লাহর দায়িত্ব (সুরা রূম ৪৭) একথার সত্যতা। 

ঘটনাটার পরের বর্ণনা হোচ্ছে এই যে ইয়াকুবের (রা:) ঐ পর্বতসম সবরের ফলে শত্রুপক্ষ মোসলেম বাহিনীর উপস্থিতি সম্বন্ধে অজ্ঞ রোয়ে গেল এবং খেয়ে দেয়ে ঘুমিয়ে পড়লো। মোজাহেদ বাহিনী সারারাত্রি অপেক্ষা কোরে শেষরাত্রে মুলাওয়াহ গোত্রের ওপর অতর্কিত আক্রমণ কোরে তাদের বেশ কিছু লোক হত্যা কোরে তাদের উট, দুম্বা, ছাগল এবং অন্যান্য সম্পদ নিয়ে রওনা দিলো। কিন্তু ইতিমধ্যেই ঐ গোত্রের লোকজন (গোত্রটি বেশ বড় গোত্র ছিলো) সব একত্র হোয়ে তাদের পিছু নিলো। মোজাহেদ বাহিনীর গতি স্বভাবতই শত্রুর চেয়ে অনেক কম ছিলো কারণ তাদের সঙ্গে বহু উট, ঘোড়া, ছাগল ইত্যাদি ছিলো আর শত্রুদের সঙ্গে এসব কিছুই ছিলোনা এবং অতি শীঘ্রই তারা মোজাহেদদের কাছে এসে গেলো। যখন বনি-মুলাওয়াহ গোত্রের অসংখ্য লোক মোজাহে্দদের ধাওয়া কোরে প্রায় ধোরে ফেলেছে তখন ঐ গোত্র ও তাদের মধ্যে শুধু কুদাইদের ওয়াদি। আরবে নিম্নস্থানকে ওয়াদি বলা হয়। ঠিক এমনি সময় মেঘ নেই, বৃষ্টি নেই, কোথা থেকে বন্যার মত পানি এসে ওয়াদি ভরে গেলো। বনি-মুলাওয়াহ গোত্রের একটি মানুষও ঐ ঢলের পানি পার হোয়ে ওপারে যেতে পারলো না; তারা অসহায় হোয়ে ওয়াদির এপারে দাঁড়িয়ে রোইল এবং মোজাহেদ বাহিনী সমস্ত টাকা পয়সা, উট, দুম্বা, ঘোড়া, ছাগল ইত্যাদি নিয়ে চোলে গেলো এবং মদিনা পৌঁছে আল্লাহর রসুলের দরবারে পেশ কোরলো (সিরাতে রসুলাল্লাহ, মোহাম্মদ ইবনে এসহাক, অনুবাদ A. Guillaume পৃ৬৬০-৬৬১)।

এসলামের সঠিক প্রকৃত আকীদার বিকৃতির ফলে ঈমানের, মো’মেন হবার সংজ্ঞার মধ্যেই যে জেহাদের শর্ত্ত; ঈমান আনার পরই যে কাজের স্থান সেই জেহাদকে ত্যাগ করার পর ঐ কাজকে যথার্থ প্রমাণ করার জন্য প্রচার করা আরম্ভ হোল যে, এসলামের জেহাদ, যুদ্ধ শুধু আত্মরক্ষামূলক; এসলাম আক্রমণাত্মক যুদ্ধ সমর্থন করে না। এই প্রচার এসলামের আকীদার মর্মমূলে যেয়ে আঘাত কোরলো। এসলামে জেহাদ, সর্বাত্মক প্রচেষ্টা এবং কেতাল অর্থাৎ সশস্ত্র যুদ্ধ শুধু আত্মরক্ষামূলক একথা তেরশ’ বছর আগে প্রচার করা শুরু হোয়েছিলো জেহাদ ছেড়ে দেবার কৈফিয়ত হিসাবে যথার্থতা প্রমাণ করার জন্য। তারপর জেহাদ ত্যাগ করার অমার্জনীয় অপরাধের শাস্তি হিসাবে উম্মতে মোহাম্মদীর হাত থেকে কর্ত্তৃত্ব ছিনিয়ে নিয়ে ইউরোপের খ্রীস্টান জাতিগুলির হাতে তুলে দিয়ে এই জাতিকে যখন আল্লাহ মো’মেনের গণ্ডী থেকে বহিষ্কার কোরে পৃথিবীর অন্যান্য সমস্ত জাতিগুলির পদাঘাত, লাথীর বস্তুতে পরিণত কোরে দিলেন, আল্লাহর লা’নতের ফলে হীন-মন্যতায় এই জাতির আত্মা পর্যন্ত আপ্লুত হোয়ে গেলো, তখন তারা ঐ কথা পৃথিবীর অন্যান্য জাতিকেও বোলতে শুরু কোরলো। তারা করজোড়ে অন্যান্য জাতিকেও বোলতে লাগলো যে আপনারা যে এই মোসলেম জাতিকে অপবাদ দেন যে, আমরা তলোয়ারের জোরে পৃথিবীতে এসলাম প্রতিষ্ঠা কোরেছি, এটা মোটেই সত্য নয়। আমরা অতি নিরীহ গোবেচারা জাতি, আমরা কখনই অন্যকে আক্রমণ কোরি না। এই দেখুন আমাদের হাতে কোন অস্ত্র আছে? দেখুন এ হাতে কোন অস্ত্র নেই; আছে তসবিহ্। তবে নেহায়েৎ যদি কেউ আমাদের আক্রমণ করে তবে আমরা আত্মরক্ষার চেষ্টা কোরি মাত্র।

যে ঘটনাটার কথা পেছনে উল্লেখ কোরেছি তাতে আল্লাহর রসুল হুকুম দিয়েছিলেন শত্রু গোত্রটাকে রাত্রে আক্রমণ কোরতে, অর্থাৎ ঘুমন্ত অবস্থায়। মোজাহেদ দল তাই কোরেছিলেন, বনি-মুলাওয়াহ গোত্রকে ঘুমিয়ে পড়ার সময় দিয়েছিলেন এবং শেষরাত্রে ঘুমন্ত অবস্থায় আক্রমণ কোরেছিলেন। আদেশটি ছিলো স্বয়ং আল্লাহর রসুলের। শুধু এই ঘটনাই নয়। নবীর জীবিত অবস্থায় খন্দকের যুদ্ধ ও তার পৃথিবী থেকে চোলে যাবার পর বিদ্রোহীদের আক্রমণ থেকে মদিনাকে রক্ষার যুদ্ধ; এই দু’টি ছাড়া আর কোন যুদ্ধই আত্মরক্ষামূলক ছিলো না। এর পর এসলামের যুদ্ধ, জেহাদ ও কেতালকে আত্মরক্ষামূলক বোলে প্রচার করা কী কোরে সম্ভব! ঐ যুদ্ধ দু’টিও আসলে সম্পূর্ণভাবে আত্মরক্ষামূলক নয়, সামগ্রিক যুদ্ধের মধ্যে কখনও কখনও আক্রমণ প্রতিহত কোরতে হয়, ওটা গোটা যুদ্ধেরই একটা পর্যায়।

অন্য যে শিক্ষা এই ঘটনা থেকে পাই তা হোচ্ছে কোর’আনে দেয়া আল্লাহর প্রতিশ্রুতি পালন। আল্লাহ বোলেছেন- আল্লাহ মো’মেনদের ওয়ালী অর্থাৎ অভিভাবক (কোরান, সুরা আল এমরান ৬৮)। আরও বোলেছেন- মো’মেনদের সাহায্য করা আমার দায়িত্ব (কোরান- সুরা রূম ৪৭)। মোজাহেদ বাহিনীর পেছনে বিপুল সংখ্যক শত্রু তাড়া কোরে প্রায় এসে পড়েছে, তাদের তুলনায় মোজাহেদরা অতি অল্প সংখ্যক, মোজাহেদরা একটা নিম্নভূমি পার হোয়ে ওপারে উঠেছেন, শত্রুরা এপারে এসে গেছে; এমনি সময় মেঘ নেই, বৃষ্টি নেই আল্লাহর আদেশে হঠাৎ কোথা থেকে বন্যার পানির ঢল এসে ঐ নিম্নভূমি প্লাবিত কোরে দিলো। একটি শত্রুও পার হোতে পারলো না। আল্লাহ তাঁর দায়িত্ব পালন কোরলেন। এ ঘটনাটা আল্লাহর নবী মুসার (আ:) ঘটনা মনে কোরিয়ে দেয়। মুসার (আ:) নেতৃত্বে বনি-এসরাঈলীদের রক্ষা করার জন্য সমুদ্র দু’ভাগ কোরে তাদের পার কোরে দিয়ে শত্রুদের ডুবিয়ে মারার মো’জেজা। সেটা ছিলো নবীর মো’জেজা আর এ ঘটনা শ্রেষ্ঠ নবীর আসহাবদের মো’জেজা, প্রকৃত উম্মতে মোহাম্মদীর মো’জেজা।

আমরা আবার সালাতে ফিরে যাচ্ছি। পৃথিবীর সব জাতিই বর্ত্তমানে দু’ভাগে বিভক্ত। সামরিক ও বেসামরিক (Military & Civilian)। বেসামরিক ভাগ সরকার গঠন কোরে নিজেরা আইন-কানুন, দণ্ডবিধি, অর্থনীতি ইত্যাদি তৈরী কোরে সেই মোতাবেক দেশ শাসন করে অর্থাৎ শেরক ও কুফরী করে, আর সামরিক ভাগ বেসামরিকদের থেকে বিচ্ছিন্ন হোয়ে সেনা ছাউনীতে থেকে যুদ্ধের প্রশিক্ষণ নেয় দেশকে রক্ষা করার, প্রয়োজনে অর্থাৎ বেসামরিকদের সিদ্ধান্ত হোলে অন্য দেশ-জাতিকে আক্রমণ করার জন্য। বর্ত্তমানে নিজেদের মূল থেকে, আকীদা থেকে, দীন থেকে সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন, আল্লাহ-রসুলের দেখানো দিক নির্দেশনার (হেদায়াহর) বিপরীতমুখে চলমান এই মোসলেম জাতিও অন্যদের অনুকরণে ঐ দু’ভাগে বিভক্ত। কিন্তু আল্লাহর শেষ নবী যে জাতি গঠন কোরলেন, যার নাম উম্মতে মোহাম্মদী, এটার মধ্যে কোন ভাগ নেই; সম্পূর্ণ জাতিটাই সামরিক। এ জাতির সর্বোচ্চ নেতা থেকে নিম্নতম মানুষটি পর্যন্ত প্রত্যেকে মোজাহেদ, যোদ্ধা। যে যোদ্ধা নয় এ জাতিতে, এই উম্মাহতে তার স্থান নেই। এ জাতিতে নির্বাচিত সংসদ (Parliament) নেই কারণ আইন তৈরীর কোন প্রয়োজন নেই; আল্লাহর দেয়া আইন-কানুন দণ্ডবিধি, অর্থনীতি সমস্তই মজুদ আছে; এবং আছে শুধু এমাম এবং এমামের নিযুক্ত স্থানীয় আমীররা (Commanders) আল্লাহর ঐ আইন কানুন, দণ্ডবিধি, অর্থনীতি ইত্যাদি অর্থাৎ দীনুল এসলামকে প্রতিষ্ঠিত কার্যকরী রাখার জন্য। এক কথায় সমস্ত জাতিটি একটি সামরিক বাহিনী, নারী-পুরুষ প্রত্যেকে এক একটি সৈনিক, মোজাহেদ, যোদ্ধা। এই সামরিক বাহিনীর প্রশিক্ষণ হোল সালাহ্।

বর্ত্তমানে পৃথিবীতে বিভিন্ন দেশ-জাতিগুলিতে যে বেসামরিক ও সামরিক (Civil & Military) বিভক্তি আছে তাতে বেসামরিক ভাগের প্রধান থাকেন প্রেসিডেন্ট বা প্রধানমন্ত্রী এবং সামরিক ভাগের প্রধান থাকেন- প্রধান সেনাপতি (Commander in Chief)। বেসামরিক লোকজন যখন প্রেসিডেন্ট বা প্রধানমন্ত্রীর সামনে যায় তখন তারা সম্মুখে ঝুঁকে, জুবুথুবু, নুব্জ হোয়ে সম্মান প্রদর্শন করে; আর অন্য ভাগের সৈনিকেরা যখন প্রধান সেনাপতির সামনে যায় তখন সে লোহার রডের মত পিঠ, ঘাড় সোজা কোরে দৃপ্তপদে খট্ খট্ কোরে সেনাপতির সামনে যায় এবং যেয়ে তড়াক কোরে স্যালুট করে এবং সোজা হোয়ে দাঁড়িয়ে আদেশের অপেক্ষা করে এবং আদেশ হোলে প্রাণদিয়ে তা পালন করে। এই উম্মতে মোহাম্মদীতে যেহেতু ঐ বিভক্তি নেই, সম্পূর্ণ জাতিটাই সামরিক, প্রেসিডেন্ট, প্রধানমন্ত্রী নেই, আছে শুধু এমাম (Commander in Chief) এবং আমীরগণ, (আমীর শব্দের আক্ষরিক অর্থই হোল আদেশদাতা, (Commander) সেহেতু তার সালাহ্ হবে সৈনিক, যোদ্ধার মত। 

বেসামরিক লোকজন প্রেসিডেন্ট বা প্রধানমন্ত্রী সামনে যেয়ে জুবু থুবু, নুব্জ নত হোয়ে সালাম দেয় কিন্তু ব্যক্তি বা দলীয় স্বার্থের প্রয়োজনে প্রেসিডেন্টের বা প্রধানমন্ত্রীর বিরুদ্ধাচারণ করে তাদের গদী থেকে অপসারণের চেষ্টা করে; কিন্তু যে সৈনিকরা দৃপ্তপদে সেনাপতির সামনে যেয়ে সোজা হোয়ে মাথা উঁচু কোরে সালাম দেয়, তারা কখনও সেনাপতির কোন আদেশের বিরুদ্ধে তো যায়ই না, তার আদেশের সঙ্গে সঙ্গে মৃত্যুর মুখে ঝাঁপিয়ে পড়ে।

এসলামে প্রকৃত সালাহ্ কেমন তা সহীহ হাদীসগুলি থেকে সংগ্রহ কোরলেই পরিষ্কার হোয়ে যায় যে বর্ত্তমানে অন্যান্য ধর্মের অনুকরণে গোঁজামিল দেবার চেষ্টায় সালাতের যে চেহারা হোয়েছে তা প্রকৃত সালাহ্ থেকে কতদূর। এই হাদীসগুলি একত্র কোরলে দেখা যায় যে, সঠিক এবং সম্পূর্ণভাবে সালাহ্ আদায় কোরলে একশ’রও বেশী নিয়ম-কানুন লক্ষ্য রেখে, সেগুলি যথাযথভাবে পালন কোরতে হয়। এসলামের প্রকৃত সালাতে যতগুলি নিয়ম-কানুন কঠিন ভাবে পালন করতে হয় পৃথিবীর কোনও সামরিক বাহিনীর কুচকাওয়াজেও ততগুলি নিয়ম-কানুন পালন কোরতে হয় না। আল্লাহর রসুল বোলেছেন- তোমরা সালাহ্ পূর্ণভাবে কায়েম কর, কারণ আল্লাহ পূর্ণ ব্যাতিত সালাহ্ কবুল করেন না [হাদীস- আবু হোরায়রা (রা:) থেকে]। এই নিয়ম-কানুনের, পদ্ধতির অনেকগুলি বর্ত্তমানে যে নামায পড়া হয় তার মধ্যেই চালু আছে, যেমন শরীর পাক থাকা, নামাযের জায়গা পাক থাকা, কাবার দিক মুখ কোরে দাঁড়ানো ইত্যাদি সাধারণ নিয়ম-কানুন যে গুলো না হোলে নামাযের আর কিছুই থাকে না। কিন্তু সালাতের মধ্যে যে সব নিয়ম-কানুন, পদ্ধতি সালাহ্কে সামরিক রূপ দেয় সেগুলিকে বাদ দেয়া হোয়েছে, সালাতের প্রাণকেই ছিনিয়ে নেয়া হোয়েছে। কাজেই এখানে শুধু সেই নিয়ম-কানুনগুলি উল্লেখ কোরবো।

□□□



সালাতের সঠিক অবস্থাগুলি ভাল কোরে বোঝাবার জন্য ছবি সংযোজন করা হোল








   
| Thursday, 30. October 2014 || Powered by: info@hezbuttawheed.com |
Share |